আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। তবে এখনো সাক্ষাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ হয়নি বলে জানিয়েছে ইসি।
সোমবার (২৭ জুলাই) ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর দফা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৫ ধারার (২) ও (৩) উপধারার বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা করতে হবে। এ জন্য স্পিকার নির্ধারিত সুবিধাজনক সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি জানিয়েছে, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন ও সিইসির একান্ত সচিব মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলম সহযোগী কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
চিঠিতে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-২০২৬ নিয়ে আলোচনার জন্য ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির সাক্ষাতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এ কারণে সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা বা সংসদ সদস্যদের নাম নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। সেই তালিকার ভিত্তিতে ইসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করবে। এরপর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সময়ে সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পান।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।